বাংলাদেশকে উড়িয়ে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শোচনীয় হারের পর আজ ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন ছিল বাংলাদেশের সামনে। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই মুদ্রার দুটি পিঠ দেখা বাংলাদেশ আজ তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামে চলতি আসরে টানা দুই জয়ে দারুণ ছন্দে থাকা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। আজ চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটে ভর করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উইলিয়ামসন ও মিচেলের ব্যাটে ৪৩ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের বড় জয় পায় কিউইরা। এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে টানা তিন জয়ে বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকায় সবার শীর্ষে নিউজিল্যান্ড।

কিউইদের হয়ে ইনিংসের সূচনা করেন ডেভন কনওয়ে ও রাচিন রবীন্দ্র। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া শতক হাঁকানো এই দুই ব্যাটারকে টাইগারদের জন্য শুরুতেই চিন্তার কারণ হতে দেন নি মুস্তাফিজ। ইনিংসের প্রথম ওভারে দারুণ লাইন লেন্থে কেবল এক রান দেন এই বাঁহাতি পেসার।

এরপর নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসের তৃতীয় ওভারে রাচিন রবীন্দ্রকে মুশফিকুর রহিমের কাছে তালুবন্দি করেন মুস্তাফিজ। ১৩ বলে ৯ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন রবীন্দ্র।দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ম্যাচের হাল ধরেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও ওপেনার ডেভন কনওয়ে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে দলীয় অর্ধশতক রান পূরণের পর আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে থাকেন এই টপ অর্ডার। তবে ইনিংসের ২১তম ওভারে ব্যক্তিগত ৪৫ রান করে সাকিব আল হাসানের বলে লেগ বি ফোরের ফাঁদে পড়েন ওপেনার কনওয়ে।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ড্যারেল মিচেলকে সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান কিউই অধিনায়ক। দীর্ঘ সময় পর ক্রিকেটে ফিরে নিজের জাত চিনিয়েছেন কেন উইলিয়ামসন। ১০৭ বলে ৭৮ রান করে দলের জয়ের ভীত গড়ে দেন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১০৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে প্যাভিলিয়নে চলে যান তিনি। শেষ দিকে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন মিচেল। এ ডানহাতি ব্যাটারের ৬৭ বলে ৮৯ রানের বিধ্বংসী অপরাজিত ইনিংসে ৪৩ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের হয়ে যথারীতি ইনিংস উদ্বোধনে নামেন লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিম। তবে শুরুটা ভালো করতে পারেনি টাইগার ওপেনাররা। ইনিংসের প্রথম বলেই সাজঘরে ফিরে গেছেন লিটন।

ট্রেন্ট বোল্টের বলে ম্যাট হেনরির তালুবন্দী হন এ টাইগার ওপেনার। ১ বলে শূন্য রান করেন তিনি। তার বিদায়ে দ্বিতীয় উইকেটে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় ইনিংসের হাল ধরেন তামিম।

কিন্তু বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারেন নি তরুণ এই ওপেনার ১৭ বলে ১৬ রান করে লকি ফার্গুসনের শিকার হন। দলীয় ৪০ রানের দ্বিতীয় উইকেট হারানো বাংলাদেশ ১২তম ওভারে আরো চাপে পড়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে হারিয়ে।

ফার্গুসনের করা শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে বসেন মিরাজ। দলীয় ৫৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ শিবিরে আসা যাওয়ার মিছিল শুরু হয়। ১৩তম ওভারে টাইগারদের চাপে রেখে সাজঘরে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮ বলে ৭ রান করে গ্লেন ফিলিপসের শিকার হন তিনি। তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের ৯৬ রানের জুটিতে ম্যাচের হাল ধরে বাংলাদেশ।

তবে দলীয় ১৫২ রানে সাকিব ব্যক্তিগত ৪০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মুশফিকুর রহিম দারুণ অর্ধশতক তুলে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ম্যাট হেনরির বলে ব্যক্তিগত ৬৬ রান করে বোল্ড হন তিনি। তাওহীদ হৃদয়ও ক্রিজে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ফলে আবারো ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। ১৫২/৪ থেকে ১৮০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে অলআউটের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় বাংলাদেশ।

তবে অষ্টম উইকেট জুটিতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তাসকিন আহমেদের ব্যাটে ২০০ রান পার করে টাইগাররা। শেষ দিকে অভিজ্ঞ রিয়াদের রানের ইনিংসে লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ রান। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন মুশফিক। কিউইদের হয়ে ৩টি উইকেট নেন লকি ফার্গুসন।