রাজধানীতে ছুরি মেরে এসএসসি পরীক্ষার্থী খুন

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া কলেজের সামনে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাজুন ইসলাম (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সায়েম (১৮) নামে আরও এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা দুজনেই চলতি বছর এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মারুক জানান, দনিয়া কলেজের সামনে দুর্বৃত্তরা তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। প্রথমে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আমরা কয়েকজন মিলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে কি কারণে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে সে বিষয়টি এখনো জানতে পারিনি।

নিহত তাজুন ইসলামের দুলাভাই আশিকুর রহমান জানান, তাজুন ইসলাম এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আজও তার একটি পরীক্ষা ছিল। কিছুক্ষণ আগে খবর পেলাম তাজুল গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। আমি ঢাকা মেডিকেলে এসে দেখি আমার শ্যালক আর বেঁচে নেই।

তিনি আরও বলেন, আমার শ্বশুর মোশারফ হোসেন কাতার প্রবাসী। তবে কী কারণে বা কারা তাকে হত্যা করেছে এ বিষয়টি এখনো জানতে পারিনি। বর্তমানে তারা কদমতলী থানার কুদারবাজার এলাকার ৮৩/১ বাসায় থাকতো। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।

আহত সায়েমকে নিয়ে আসা বন্ধু মুশফিক জানান, আমি এবং আরেক বন্ধু কোচিং শেষে ফেরার পথে দেখি সায়েম রক্তাক্ত অবস্থায় দনিয়া কলেজের পাশে পড়ে আছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে এসেছি। বর্তমানে জরুরি বিভাগের ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে।

সে আরও জানায়, সেখানে অনেকেই মারামারি করছিল। তাদের মধ্যে কায়েস নামে একজনকে চিনতে পেরেছি। তবে কি কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। আমি আদর্শ স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি সায়েম এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। হাসপাতালে এসে শুনি এই ঘটনায় তাজুন ইসলাম নামে আরও একজন নিহত হয়েছে।