গাজায় ঘণ্টায় মারা যাচ্ছে ৪ শিশু

অবরুদ্ধ গাজা ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় প্রতি ঘণ্টায় নিহত হচ্ছে ৪ শিশু নিহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি হামলায় গাজার এক হাজার শিশু তাদের এক বা উভয় পা হারিয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস)।

প্রতিবছর ৫ই এপ্রিল ফিলিস্তিনি শিশু দিবস পালিত হয়। এ দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে বেশ কয়েকটি পোস্ট প্রকাশ করেছে পিআরসিএস। এর মধ্যে একটি পোস্টে লেখা ছিল, ‘গাজায় ১ হাজার শিশু তাদের হয় একটি বা না হয় উভয় পা হারিয়েছে।’

অন্য একটি পোস্টে পিআরসিএস বলছে, গাজায় অনাহার ও পানিশূন্যতায় এখন পর্যন্ত ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আরেকটি পোস্টে বলা হয়েছে, ‘গাজায় প্রতি ঘণ্টায় ৪ শিশু নিহত হচ্ছে।’

অন্যদিকে ফিলিস্তিনি শিশু দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের শিশু তহবিল- ইউনিসেফ বলছে, গাজার ১০টি স্কুলের মধ্যে আটটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ফলে ৬ লাখ ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ নেই।

জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) বলছে, গাজায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিশু তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও বলছে, উত্তর গাজার দুই বছরের কম বয়সী ৩০ শতাংশ শিশু তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে।

ফিলিস্তিনি বন্দি অধিকার গ্রুপ অ্যাডামির বলছে, ইসরায়েলের কারাগারে ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু বন্দী রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এদিন ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস যোদ্ধারা। তারপর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। পরে ২৮ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।

প্রায় ছয় মাস ধরে ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় গাজার হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে, যা গত ৭৫ বছরে ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক সংঘর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এছাড়াও ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও ৭৬ হাজার আহতের পাশাপাশি প্রায় ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা ইসরায়েলি আক্রমণে বাস্তুচ্যুত এবং তাদের সকলেই খাদ্য নিরাপত্তাহীন। গাজায় ত্রাণ সরবরাহ কমেছে প্রায় অর্ধেক।