ভূমি নামজারি, স্বাস্থ্যসেবাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে নাগরিকদের ন্যায্য সেবা পেতে হয়রানি ও ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাঙ্গুনিয়ার মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ। ঘুষ, উপরি ও বখশিশ ছাড়া সহজে সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ পরিস্থিতির প্রতিকার ও জনহয়রানি বন্ধে সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কাপ্তাই সড়কের সৈয়দবাড়ী ড্রিম রেস্টুরেন্টের সভাকক্ষে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মডেল শাখা ও পৌরসভা শাখার নীতিনির্ধারণ কমিটির সভায় এসব কথা বলা হয়।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মডেল শাখার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, অধিকারবঞ্চনা ও জনহয়রানির যথাযথ প্রতিকার জরুরি। একই সঙ্গে বেতাগী, সরফভাটা, পদুয়া, চন্দ্রঘোনা ও ইসলামপুরে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
সভায় কর্ণফুলী ও ইছামতী নদী এবং শিলক খাল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংসদে বক্তব্য রাখাসহ আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার বিষয়ে ভূমিকা রাখায় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। বেতাগীর মানবাধিকারকর্মী মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা এবং সরফভাটার প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওসমান গণীর ওপর সশস্ত্র হামলার প্রসঙ্গও সভায় উঠে আসে।
সভায় নব্বইয়ের দশকে ধসে পড়া মরিয়মনগর চৌমুহনী সেতুর স্থলে জরুরি ভিত্তিতে বেইলি ব্রিজ স্থাপনে মানবাধিকার সংস্থার ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়। তৎকালীন সংসদ সদস্য শহীদ সালাহ্ উদ্দীন কাদের চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মরিয়মনগর চৌমুহনী-রাণীরহাট-গাবতল সড়কটি (রোড আইডি-জেড ১৬১৭) তাঁর স্মরণে নামকরণের প্রস্তাব করা হয়।
বক্তারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সম্পদের কাস্টডিয়ান। তাই জনস্বার্থে উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সরকারি কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসনের উন্নয়ন সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন-অগ্রগতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের দাবিও জানান তারা।
সভায় উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম আজাদ ও পৌরসভা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে এহসান শামীমের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন পৌরসভা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম।
এতে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ, সাধারণ সম্পাদক নূরুল আবছার চৌধুরী, ড. এস এম ফয়সল অশ্রু, ইঞ্জিনিয়ার তোফাজ্জল আহমদ, অ্যাডভোকেট বঙ্কিম চন্দ্র দাশ, নূরুল আজিম, মো. মহিন উদ্দিন, সিকদার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ, মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী বাবু, নূরুল আমিন তালুকদার, মো. খাইরুল আলম, মৌলভী আবুল কালাম চৌধুরী, মাস্টার মাহমুদুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন শাহজাহান ও কাজী মুহাম্মদ ইসহাক ফারুকীসহ অনেকে।
সভায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মডেল শাখার ১৪তম এবং পৌরসভা শাখার সপ্তম কার্যকরী পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে উভয় শাখার আজীবন স্থায়ী সদস্যদের হালনাগাদ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালনের জন্য উপজেলা শাখার আজীবন সদস্য কৃষি গবেষক ড. এস এম ফয়সল অশ্রু এবং পৌরসভা শাখার আজীবন সদস্য সড়ক পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী তোফাজ্জল আহমদকে ‘নির্বাচন সমন্বয়ক’ মনোনীত করা হয়।
এ ছাড়া মৌলিক অধিকার বিষয়ে পাঁচটি সাব-কমিটি, প্যানেল ল’ইয়ারদের সমন্বয়ে লিগ্যাল এইড বোর্ড এবং প্যানেল মেডিয়েটরদের সমন্বয়ে জুরি অ্যান্ড আর্বিট্রেশন বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি, সরকারি-বেসরকারি সেবার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনার জন্য সাংবাদিক সদস্যদের নিয়ে ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অ্যান্ড অবজারভার সাব-কমিটি’ গঠন করা হয়।
পুনর্গঠিত সব সাব-কমিটি ও বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্তও সভায় নেওয়া হয়।